ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে পাল্টে যেতে পারে পুরোনো হিসাব-নিকাশ


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-২৬ ১৯:৫০:৪০
কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে পাল্টে যেতে পারে পুরোনো হিসাব-নিকাশ কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে পাল্টে যেতে পারে পুরোনো হিসাব-নিকাশ
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ১০:০১ এএম.
 
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বলয় ও দলীয় প্রভাবের বাইরে গিয়ে এবারের নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে প্রস্তুত কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের তরুণ ভোটাররা। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কথা বলছেন তারা। এতে বদলে যেতে পারে এ আসনে ভোটের পুরোনো হিসাব-নিকাশ।
 
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বালতি প্রতীকে মোঃ রুকুনুজ্জামান, ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ আজিজুর রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান, লাঙ্গল প্রতীকে কে এম ফজলুল মণ্ডল, মই প্রতীকে মোঃ আব্দুল খালেক এবং কাঁচি প্রতীকে মোঃ রাজু আহম্মেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
 
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাতীয় পার্টির একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। পরবর্তী সময়ে নবম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত চারটি নির্বাচনের মধ্যে তিনবারই আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে আওয়ামী লীগ শাসনামলে এসব নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়ে গেছে। অন্যদিকে সময়ের ব্যবধানে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ইমেজ সংকটের কারণে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা বর্তমানে তলানিতে নেমে এসেছে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে ভিন্ন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করছেন সচেতন নাগরিকরা। 
 
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠতে পারে তরুণ ভোটাররা। শিক্ষিত, সচেতন ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এই ভোটাররা আর শুধু দলীয় পরিচয়ে ভোট দিতে আগ্রহী নন। তারা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে চান। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের ফলাফল আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
 
রৌমারী উপজেলার তরুণ ভোটার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘উত্তরের এই পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে আন্তরিকভাবে যিনি কাজ করবেন, তাঁর পক্ষেই সমর্থন থাকবে।
 
আরেক তরুণ ভোটার মোঃ নুর ইসলাম বলেন, ‘ভোট মানে শুধু দল নয়, ভবিষ্যৎ। আমাদের জীবনের সঙ্গে যারা বাস্তবভাবে যুক্ত হবে, কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস তৈরি করবে, তরুণরা তাদেরই বেছে নেবে।’
 
কুড়িগ্রাম নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। যার বড় একটি অংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ আসনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক হিসাব বলছে, বিএনপি মনোনীত মোঃ আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রুকুনুজ্জামানের বালতি প্রতীকের মধ্যেই ভোটের মূল লড়াই হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ